খবর নারায়ণগঞ্জ.কম:
আনন্দ, উচ্ছ্বাস আর বিজয়ার করুণ সুরের মধ্য দিয়ে বুধবার (২১ অক্টোবর) শেষ হলো হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও উৎসবমুখর পরিবেশে নারায়ণগঞ্জ জেলার ২৪০টি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে ২০২৬ সালের দুর্গোৎসব।
২০২৬ সালের শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপিত হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির সনাতন ধর্মাবলম্বী, পূজা উদযাপন কমিটি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সাধারণ নাগরিকদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ প্রকাশ করেছেন।
বুধবার সকালে দর্পণ-বিসর্জনের মাধ্যমে দেবীকে বিদায় জানান ভক্তরা। পরে সন্ধ্যা থেকে শীতলক্ষ্যা নদীর ঐতিহ্যবাহী ৫ নম্বর ঘাটসহ জেলার নির্ধারিত বিভিন্ন ঘাটে প্রতিমা বিসর্জন শুরু হয়। ঢাকের বাদ্য আর 'আসছে বছর আবার হবে' ধ্বনিতে সারিবদ্ধভাবে প্রতিমা বিসর্জন দেন ভক্তরা।
বিসর্জনকে ঘিরে সড়কে জেলা পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ এবং নদীতে নৌ-পুলিশ টহল দেয়। পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করে ফায়ার সার্ভিস, আনসার ও মেডিকেল টিম।
জেলা প্রশাসক জানান, জেলার সকল সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসনের কঠোর নজরদারি, প্রতিটি মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা ও ড্রোন মনিটরিং এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), পুলিশ, র্যাব, আনসারসহ জেলার বিভিন্ন পূজা উদযাপন কমিটির সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে উৎসবটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির বলেন, দুর্গাপূজা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই উৎসব হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশাপাশি অন্য ধর্মের মানুষকেও একত্রিত করে, যা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরে। সব ধর্মের মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সামাজিক সম্প্রীতির কারণেই উৎসবের এই সুন্দর পরিবেশ বজায় ছিল।
তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জ বরাবরই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির শহর। সকলের সতর্ক অবস্থান ও সহযোগিতার কারণে কোনো রকম ঝামেলা ছাড়াই আনন্দঘন পরিবেশে উৎসবটি শেষ হয়েছে। এজন্য আমি সিটি কর্পোরেশন,জেলা পুলিশ, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি ও মহানগর বিএনপি সহ সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন পূজা উদযাপন কমিটি, গণমাধ্যমকর্মী ও সর্বস্তরের জনগণকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
উল্লেখ্য, গত ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠী তিথিতে চণ্ডীপাঠ, বোধন ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে আনন্দময়ীর আগমনে শারদীয় দুর্গোৎসবের সূচনা হয়।