
প্রেস বিজ্ঞপ্তি: ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বর্ধিত বাস ভাড়া প্রত্যাহারের দাবিতে আজ ২৩ সেপ্টেম্বর (বুধবার) গণসংহতি আন্দোলনের প্রতিনিধি দল জেলা প্রশাসক রায়হান কবিরকে স্মারকলিপি প্রদান করেছে।
গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়কারী তারিকুল সুজন এর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন মহানগর কমিটির সমন্বয়কারী মোঃ বিপ্লব খান, জেলা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী আলমগীর হোসেন আলম, মহানগর কমিটির নির্বাহী সমন্বয়কারী পপি রানী সরকার, জেলা কমিটির প্রচার সম্পাদক শুভ দেব, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন নারায়ণগঞ্জ জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৃজয় সাহা প্রমুখ।
স্মারকলিপি প্রদান কালে গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়কারী তরিকুল সুজন বলেন, বিগত সরকারের সময়ে যে সিন্ডিকেট পরিবহন খাত নিয়ন্ত্রণ করত, তারা এখনো বহাল তবিয়তে আছে। শুধু ব্যক্তিবদল হয়েছে, ব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। এখানে বাস মালিক সিণ্ডিকেটরা বাস ভাড়া বাড়ানোর জন্য উৎপেতে থাকে। গত ২৩ এপ্রিল সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করে কিলোমিটার প্রতি বাস ভাড়া নির্ধারণ করে ১১ পয়সা। গত ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাস মালিকরা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে ৫৫ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করে সরকারের সিদ্ধান্তকে অমান্য করেছে এবং যাত্রী সাধারনের কাছ থেকে প্রায় ৩ টাকা অতিরিক্ত আদায় করেছে। যা কোন ভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
তিনি আরো বলেন, গত ২০ সেপ্টেম্বর সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির ঘোষণার দেওয়ার সাথে সাথেই বাস মালিকরা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে যাত্রী সাধারণের কাছ থেকে উৎসব-বন্ধন বাসের ভাড়া ৫ টাকা বাড়িয়ে ৬০ টাকা এবং ঢাকা নগর পরিবহন কর্তৃপক্ষ এসি বাস ১০ টাকা বাড়িয়ে ৮০ টাকা ভাড়া আদায় করছে। একই সাথে শিক্ষার্থীদের হাফ বাড়া ৩০ টাকার পরিবর্তে ৪০ টাকা আদায় করছে। অন্যায্য ৬০ টাকা যদি সাধারণ ভাড়া হয় তবে ৪০ টাকা হাফ ভাড়া হয় কোন যুক্তিতে, যা আমাদের বোধগম্য নয়। বাস মালিকদের এই সিণ্ডিকেট যাত্রী সাধারণের পকেট কাটা রীতিমতো ডাকাতির সাথে তুলনা চলে।
জেলা যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটির সভাপতি হিসেবে জেলা প্রশাসক রায়হান কবির গণসংহতি আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের কথা শুনেন এবং তিনি বিআরটিএ এর সহকারী পরিচালক মোঃ মাহবুবুর রহমানের সাথে কথা বলেন। জেলা প্রশাসকও আমাদের সাথে একমত হন যে, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বাস মালিকরা সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির আমাদের আশ্বস্ত করেন, এই অন্যায্য অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে তিনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এবং বাস মালিকদের সাথে কথা বলে যৌক্তিক বাস ভাড়া নির্ধারণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।