
প্রেস বিজ্ঞপ্তি : ১৭ সেপ্টেম্বর মহান শিক্ষা দিবসের ৬৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্প স্তবক অর্পন করা হয়। এই সময় উপস্থিত ছিলেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের জেলার আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, জেলা কমিটির সদস্য রোকন মিয়া, সংগঠক প্রভাতী আক্তার।
নেতৃবৃন্দ বলেন, আজ থেকে ৬০ বছর আগে সার্বজনীন বিজ্ঞানভিত্তিক একই পদ্ধতির শিক্ষার যে দাবি ছাত্র সমাজ উত্থাপন করেছিল; সেই দাবির স্বপক্ষে প্রাণ দিয়ে ছিলেন বাবুল, মোস্তফা, ওয়াজিউল্লাহ, সুন্দর আলী । স্বাধীন দেশে আজও সেই শিক্ষা কুক্ষিগত করে রেখেছে ধনিক শ্রেণী। স্বাধীন দেশে ৫৫ বছরে নানা নামের শাসক শাসন করেছেন। কিন্তু শিক্ষা সম্পর্কিত রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি বদলায়নি। আজও শিক্ষাকে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত করা হচ্ছে, প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ের পাঠ্যপুস্তক থেকে শুরু করে সর্বস্তরে শিক্ষায় সাম্প্রদায়িকীকরণ করা হচ্ছে । মহল্লায় মহল্লায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে গড়ে তোলা হয়েছে সার্টিফিকেট বিক্রয় কেন্দ্র, অপরদিকে শিক্ষার মান হয়েছে ভুলন্ঠিত। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইউজিসির কৌশলপত্র অনুযায়ী কমিয়ে আনা হচ্ছে বরাদ্দ। অথচ শিক্ষা দিবসের চেতনা তা ছিলো না। সর্বজনীন, বিজ্ঞান ভিত্তিক, সেক্যুলার, বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক শিক্ষার দাবিতে গড়ে উঠেছে মহান শিক্ষা দিবস।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, শিক্ষা কোনো পণ্য নয়, শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। একটি গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন সর্বজনীন, বিজ্ঞানভিত্তিক, সেক্যুলার, অভিন্ন পদ্ধতির ও গণতান্ত্রিক শিক্ষাব্যবস্থা। কিন্তু বর্তমানেও শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ, কোচিংনির্ভরতা, পাঠ্যপুস্তকের অসংগতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৈষম্য, শিক্ষক সংকট, গবেষণায় অনগ্রসরতা এবং শিক্ষার্থীদের ওপর ব্যয়ের চাপ শিক্ষার অধিকারকে সংকুচিত করছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, মহান শিক্ষা দিবসের শহিদদের আত্মত্যাগের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানাতে হলে শিক্ষাকে মুনাফার পণ্য না করে রাষ্ট্রের দায়িত্বে সর্বজনীন ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশ, সংগঠন ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করতে হবে। সাম্প্রদায়িকতা ও স্বৈরাচারী নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করতে হবে।নেতৃবৃন্দ, মহান শিক্ষা দিবসের শহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে আরও শক্তিশালী করে বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।