খবর নারায়ণগঞ্জ.কম:
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার গোপালদী পৌরসভার উলুকান্দি গ্রামে যৌতুকের দাবিতে ঐশী পোদ্দার (১৯) নামে এক গৃহবধূকে নৃশংসভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। হত্যার পর মরদেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগও করেছে নিহতের পরিবার।
এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন করেছে নিহতের পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসী।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন করেছে নিহতের পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসী।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, যৌতুকের দাবিতে ওই গৃহবধূকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে। পরে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয় বলেও তারা দাবি করেন।
বক্তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
নিহতের পিতা শংকর পোদ্দার অভিযোগ করে বলেন বিগত তিন মাস আগে ঐষীর সঙ্গে উলুকান্দী দক্ষিণ পাড়া এলাকার শিবু রায়ের ছেলে শান্ত কুমার রায়ের বিবাহ হয়। বিবাহে ১২ লক্ষ টাকা ১২ ভরী স্বর্ণ অলংকার যৌতুক হিসেবে দেওয়া হয়। বিবাহের মাস খানেক পরে হতে স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি ঐষীকে তার বাবার বাড়ি হতে টাকা আনার জন্য চাপ দেয়। পরে দুই লাখ টাকা ঐষীর স্বামী শান্তকে দেই। তার পরে ও আমার মেয়েকে কেন মারা হল। মাননীয় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার আকুল আবেদন আপনাদের ও মেয়ে সন্তান আছে। আমার মেয়ের হত্যার যাতে সুষ্ঠু বিচার পাই সেই দিকে একটু লক্ষ্য রাখবেনা।
ঐষীর মা রানী পোদ্দার জানান ঘটনার দিন স্বামী, শ্বশুর ও শ্বাশুড়ি মিলে ঐষীকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে তার গলায় ওড়না প্যাঁচিয়ে সিলিংফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়।
তিনি বলেন, ঐষী খাটে বসা অবস্থায় কীভাবে সিলিংফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস হয়? হত্যাকারীরা হত্যা করে তা আত্মহত্যা বলে প্রচারের চেষ্টা করেছিল বলে তিনি জানান। তিনি বলেন আমার মেয়েকে যারা হত্যা করেছে তাদের যাতে ফাঁসি দেওয়া হয়। পাশাপাশি আর যাতে কারো মায়ের বুক খালি না হয় সেদিকে প্রশাসনকে দৃষ্টি দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানাই।
নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আয়োজিত এ মানববন্ধনে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।