শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপনের লক্ষ্যে নিরাপত্তায় কোনো ছাড় নয়: ডিসি রায়হান কবির


Jahid প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৮, ২০২৬, ৬:২৪ অপরাহ্ন / ০
শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপনের লক্ষ্যে নিরাপত্তায় কোনো ছাড় নয়: ডিসি রায়হান কবির

খবর নারায়ণগঞ্জ.কম:

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে কঠোর বার্তা দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হান কবির।

বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে নিরাপত্তা ও সার্বিক প্রস্তুতি বিষয়ক এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

জেলা প্রশাসক জানান, সম্প্রতি জেলা প্রশাসন আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে জালার বিভিন্ন পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সহ জেলার সকল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের নিয়ে সফল মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও পরামর্শের কথা প্রকাশ করেন। জেলা প্রশাসন তাদের সকল পরামর্শ ও সমস্যার সমাধানে কাজ করে যাচ্ছে। এবার নারায়ণগঞ্জ জেলায় মোট ২৪০টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিমা নির্মাণ থেকে শুরু করে পূজা উদযাপন ও প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে ত্রি-স্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, পূজামণ্ডপে বিশৃঙ্খলা, উসকানি, মাদক, ইভটিজিং, নারী ও শিশু হয়রানি কিংবা দুষ্কৃতকারীদের তৎপরতা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে বিশেষ নজরদারি থাকবে। পুলিশ, আনসার, সিআরবি/এসআরবি ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে ২৪ ঘণ্টা টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হবে।

ডিসি জানান, প্রতিটি মণ্ডপে বাধ্যতামূলকভাবে আইপি ক্যামেরা স্থাপন, সার্বক্ষণিক ভিডিও ধারণ ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। মণ্ডপে দায়িত্ব পালনকারী সকল স্বেচ্ছাসেবকের পরিচয়পত্র নিশ্চিতকরণ এবং পর্যাপ্ত নারী স্বেচ্ছাসেবক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি মণ্ডপে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, পর্যাপ্ত আলো, চার্জার লাইট ও প্রয়োজন অনুযায়ী জেনারেটর রাখতে হবে। পূজা শুরুর আগেই ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগের মাধ্যমে মণ্ডপগুলোর বৈদ্যুতিক ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করা হবে।

গুজব প্রতিরোধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো তথ্য যাচাই ছাড়া শেয়ার না করার আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে এর উৎস শনাক্ত করে আগেই তা প্রতিরোধ করতে হবে। ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের উদ্দেশ্যে কেউ অপতৎপরতা চালালে তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। এ জন্য আমাদের সাইবার মনিটরিং টিম সার্বক্ষণিক সক্রিয় থাকবে।

তিনি আরও বলেন, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’—এই চেতনাকে ধারণ করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। আজান ও নামাজের সময় পূজামণ্ডপে মাইক বা বাদ্যযন্ত্রের শব্দ নিয়ন্ত্রণ এবং অন্য ধর্মের মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানান তিনি।

প্রতিমা বিসর্জনের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্ধারিত স্থানেই বিসর্জন দিতে হবে। বিসর্জনস্থলে ফায়ার সার্ভিস, নৌপুলিশ ও ডুবুরি দল প্রস্তুত রাখা হবে। আলোকসজ্জা, পরিচ্ছন্নতা, যানবাহন চলাচল ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিসর্জন শেষ করতে হবে।

মণ্ডপ ঘিরে কোনো মেলা, মাদক, জুয়া, হাউজি কিংবা অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলতে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

ডিসি মো. রায়হান কবির বলেন, নারায়ণগঞ্জ হচ্ছে ধর্মীয় সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এখানে সকল ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলাফেরা করে ও উৎসব ভাগাভাগি করে আনন্দ উপভোগ করে। দুর্গাপূজার নিরাপত্তা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসবের নিরাপত্তা নয়; এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সামাজিক দায়িত্বশীলতারও বিষয়।

তিনি জানান, মহালয়া থেকেই নিরাপত্তা প্রস্তুতি শুরু হবে। আগামী ১১ অক্টোবর ভোর ৫টা থেকে মহালয়াকে কেন্দ্র করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পূজা উপলক্ষে জেলা পর্যায়ে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ, উপজেলা পর্যায়ে মনিটরিং টিম এবং প্রতিটি মণ্ডপে পৃথক নিরাপত্তা কমিটি কাজ করবে। এছাড়া জরুরি সেবার জন্য হটলাইন নম্বর চালু থাকবে।