রাজনীতি দিয়ে রাজনীতি মোকাবেলা করতে চাই, প্রতিহিংসা দিয়ে নয় – গিয়াস উদ্দিন

খবর নারায়ণগঞ্জ.কম :
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কটুক্তি ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (২০ জুলাই) বিকেলে সোনারগাঁ থানাধীন নয়াপুর বাজার সংলগ্ন এলাকায় সোনারগাঁ থানা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় সাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সাংসদ আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষনা দিয়ে সশস্ত্র লড়াই করেছে এবং বিএনপির মত বৃহত্তম দল গঠন করে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে প্রেসিডেন্ট হয়েছেন ও বাংলাদেশের মর্যাদা সারাবিশ্বের কাছে তুলে ধরেছেন। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা তাকে হত্যা করেছে। তার সহধর্মীনি বেগম খালেদা জিয়া আমাদেরকে নেতৃত্ব দিয়ে বিএনপিকে বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রতিষ্টা করেছেন। যিনি কিনা স্বৈরশাসক বিরুদ্ধে লড়াই করে দেশবাসীর কাছে আপোষহীন নেত্রী হিসেবে খেতাব পেয়েছেন।
১/১১ এর ঘটনা আপনারা সবাই জানেন, সে সময় আমিও গ্রেফতার হয়েছিলাম। আমাদের নেতা তারেক রহমানকে গ্রেফতার করা হয় এবং তাকে নিষ্ঠুর নির্যাতন করে কমরের হাড় ভেঙে দেওয়া হয়। তবুও আমাদের নেত্রী দেশ ছেড়ে বিদেশ যান নি। তারেক রহমান চিকিৎসার জন্য বিদেশ গেলেন এরপর তাকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হলো এবং তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় মিথ্যা রায় দেয়া হলো। পরবর্তীতে যখন ফ্যাসিস্ট হাসিনা ক্ষমতায় আসলো তখন সে দেশের সম্পদ লুন্ঠন, মানুষকে অত্যাচার, নির্যাতন শুরু করলো। কেউ যদি অন্যায় অবিচারের প্রতিবাদ করতো তাহলে তার বিরুদ্ধে নিদারুন অত্যাচার, নির্যাতন শুরু করলো। গুম, খুন, হত্যা, নির্যাতন স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার আমলে কি পরিমান হয়েছে সেটা আপনারা জানেন।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর তারেক রহমান দেশের বাইরে থেকে আমাদেরকে দিয়ে আন্, সংগ্রাম করিয়েছেন। এই দীর্ঘ সময় আমরা নির্যাতন, নিপীড়ন সহ্য করে সকল ভয়-ভীতিকে উপেক্ষা করে আমরা আন্দোলন, সংগ্রাম করেছি। ছাত্ররা হঠাৎ করে ২০২৪ সালে বৈষম বিরোধী কোটা আন্দোলন শুরু করে। এই কোটা আন্দোলন আর আমাদের ১৬ বছরের আন্দোলন একসূত্রে একাকার হয়ে গেলো। সেই সময় একটি আন্দোলনের ডাক দেয়া হলো যেটা আমরা দীর্ঘ ১৬ বছর যাবৎ করে আসছি। সেটা হলো এক দফার আন্দোলন, শেখ হাসিনার পতনের আন্দোলন। ছাত্র-জনতার আন্দোলন জুলাই-আগস্টে চুড়ান্ত রুপ ধারন করে এবং ৫ আগস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
স্বৈরাচার মুক্ত দেশ পেলাম আমরা কিন্তু এখন আবার অনেকে বলতে শুরু করেছে এই আন্দোলনের পিছনে নাকি অনেক স্বপ্ন আর দাবী দাওয়া ছিলো। তখন স্বপ্ন ছিলো বৈষম্য বিরোধী কোটা আন্দোলনের স্বপ্ন তখনতো সংস্কারের দাবী ছিলোনা। সংস্কারের দাবী ছিলো বিএনপির। ২০২৩ সালে তারেক রহমান সংস্কারের কথা বলেছিলেন। তিনি জানতেন এই আন্দোলন, সংগ্রামের মধ্য দিয়ে একদিন না একদিন স্বৈরাচারের পতন হবে। যখন স্বৈরাচার থাকবেনা তখন বিপর্যস্ত এই দেশকে নতুন করে গড়ে তুলতে হলে সংস্কারের প্রয়োজন হবে। এজন্য তিনি রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতে ৩১ দফা দাবী উপস্থাপন করেন।
বিএনপি একটি বিশাল পরিবার। বিক্ষিপ্ত ঘটনা অনেক সময় ঘটে, দেখতে হবে জানার তিনি বিচার করেন কিনা। তাই আগামী দিনে নেতৃত্ব তাঁর হাতেই ন্যস্ত হবে, অন্যায় যেই করুক তিনি কাউকে ছাড় দেন না। যারা ষড়যন্ত্র করছেন তাদেরকে বলি, হীনমন্যতা ছেড়ে দেন। এত বিশাল বিএনপি পরিবারের দুই একটি উদাহরন দিয়ে তারেক রহমানকে নিয়ে কটুক্তি করেন, বিএনপির ঘাড়ে আপনারা অনেক কিছু চাপিয়ে দেন। কে চাঁদাবাজি করে আর কে অন্যায় করে সেগুলো আমরা জানি। কিন্তু আমরা রাজনীতি দিয়ে রাজনীতি মোকাবেলা করতে চাই, প্রতিহিংসা দিয়ে নয়।
এসময় আরো বক্তব্য রাখেন, সোনারগাঁ থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি খন্দকার আবু জাফর, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শাহআলম মুকুল, নাসিক সাবেক কাউন্সিলর জিএম সাদরিল, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সাংগঠনিক সম্পাদক আকবর হোসেন, সনমান্দি ইউপির সাবেক সভাপতি রমজান সরকার, থানা যুবদলের আহ্বায়ক শহিদুর রহমান স্বপন, সাবেক সাংগঠনিক বদিউল আলম, সোনারগাঁ যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফুল আলম, সাদিপুর ইউপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহআলম কিরন, সাদিপুর যুবদল নেতা রফিকুল ইসলাম রফিক, সোনারগাঁ থানা যুবদলের আহ্বায়ক তোফাজ্জল হোসেন হিমেল, শম্ভুপুরা ইউনিয়ন যুবদল নেতা আমজাদ হোসেন, থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব নাসির উদ্দীন, জেলা কৃষকদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল মিয়া, সাদিপুর ইউপির সহ-সভাপতি আজিজ মোল্লা, সনমান্দি ইউপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন, সাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম মোল্লা সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

