আমাদের এখন ঘুরে দাঁড়ানোর সময় – সফিকুজ্জামান
খবর নারায়ণগঞ্জ.কম :
নীট শিল্পের সূতিকাগার নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলে শ্রম শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টায় বিকেএমইএ এর সম্মেলন কক্ষে এ মতবিনিময় সভা আয়োজন করা হয়।
সভায় বিকেএমইএ এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ের সচিব এ.এইচ.এম সফিকুজ্জমান।
প্রধান অতিথি তার বক্তৃতায় বলেন, আমি শ্রম সচিব হিসেবে ৮ তারিখ যোগদান করি এবং ৯ তারিখ গাজিপুর যাওয়ার কথা চিন্তা করি কিন্তু সেখানে এমন পরিবেশ ছিলোনা যে সেখানে গিয়ে শ্রমিকদের সাথে আলোচনা করবো। আমি বিশ্বাস করি কোন কারখানার শ্রমিক চাইবে না তার কারখানার একটি সুতাও নষ্ট হবে। কারখানায় চাওয়া মাত্র কাজ পাওয়া যায় না। তাছাড়া বর্তমানে কারখানাগুলোতে কাজের চাপ কম। হঠাৎ করে বললেই চাকরি হবেনা, এজন্য সময় দিতে হবে। নইলে বাইরে থেকে লোক এসে কারখানায় আগুন দিবে, ভাংচুর করবে সেটা কোন সমাধান নয়। কারখানা রক্ষায় সেনাবাহিনী পাহারা দিবে এটা হয় না। এজন্য মালিক শ্রমিককে একত্রিত হয়ে কাজ করতে হবে। সমস্যা সমাধানে শ্রমিক প্রতিনিধিরা কথা বলবে, মালিকরা তাদের কথা শুনবে। মাঝখানে যে ফারাক রয়েছে সেটা ঠিক করতে হবে। এজন্য যেকোন মূল্যে কারাখানার চাকা চালু রাখতে হবে এবং পণ্য উৎপাদন মাত্রা সঠিক রাখতে হবে। অনেক মালিকরা নেই, ৫ আগষ্টের পর অনেকেই পালিয়ে গেছে, কারখানা বন্ধ, মালিকের কোন খোঁজ নেই। সেগুলো পূর্ণ করতে হবে। এখন আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর পালা, আমাদেরকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। আমাদের একটা ফান্ড আছে সেই ফান্ড কাজে লাগাতে হবে। অনেক অভিযোগ রয়েছে, যেগুলো সমাধান করতে হবে। মালিক পক্ষ, শ্রমিক পক্ষ উভয়কেই এগিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশের যে শ্রম পরিবেশ, সবাই এগিয়ে আসলে আশাকরি ভালোকিছু করা সম্ভব।
সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলেছি যে শ্রমিকদের যেকোন ন্যায্য দাবী আমরা পূরণ করবো। অযৌক্তিক কোন দাবী বা কারখানা বন্ধ রেখে রাজপথে কোন দাবী নিয়ে আলোচনা হবে। আলোচনা করতে হলে কারখানার ভিতরে করতে হবে। শ্রমিক নেতৃবৃন্দকে বলবো আপনারা আমাদেরকে সহযোগীতা করুন, আপনাদের সাথে নিয়েই আমরা এগিয়ে যাবো। যদি পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয় তাহলে বাইরের যে সকল কোম্পানী রয়েছে তারা ইনভেস্ট তো দুরের কথা এখান থেকে চলে যাবার কথা জানিয়েছে। গত কয়েকমাস আগে নতুন একটি মজুরি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে যা এখনো সকল কারখানা চালু করতে পারেনি। এখন যদি আবার পূণরায় বেতন বাড়ানো হয় তাহলে অনেক কোম্পানি সেটা করতে পারবেনা। শ্রমিক প্রতিনিধিদের বলবো, আপনারা শ্রমিকদের বোঝান। নইলে এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে এ ব্যবসা বাইরের দেশে চলে যাবে।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন, শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি সিবগাত উল্লাহ, জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল হক, জেলা পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার, অতিরিক্ত ডিআইজি নারায়ণগঞ্জ জেলা শিল্প পুলিশ মোঃ আসাদুজ্জামান, বিজিএমইএ এর সভাপতি খন্দকার রফিকুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ জেলার কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল আতিক সহ বিভিন্ন কারখানার মালিকগণ।