তাজা খবরথানার সংবাদধর্ম ও শিক্ষাফতুল্লা থানাশীর্ষ সংবাদসম্পাদকের পছন্দ

উইঘুর মুসলিমদের উরুমকি গণহত্যা দিবস উপলক্ষে পাগলায় সচেতন নাগরিক সমাজের মানববন্ধন

খবর নারায়ণগঞ্জ.কম :
সচেতন নাগরিক সমাজ নারায়ণগঞ্জ এর উদ্যোগে উরুমকি গণহত্যার ১৪ তম দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৫ জুলাই) বিকেলে ফতুল্লার ঢাকা নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের পাগলা বাজার ওয়ালটন প্লাজার সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সচেতন নাগরিক সমাজ নারায়ণগঞ্জ এর আহ্বায়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম এর সভাপতিত্বে মানববন্ধন কর্মসূচিতে সংগঠনের পক্ষে বক্তব্য রাখেন- পিয়াস আহমেদ সোহেল, এড. হুমায়ুন কবির, গোলাম কিবরিয়া সাত্তার, শাহাদাৎ হোসেন সেন্টু প্রমুখ।
এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, কবির হোসেন রাজু, জামাল আহম্মেদ, আনিছুর রহমান, মোঃ জজ মিয়া, মোঃ জাকির হোসেন মেম্বার, ওবায়দুর রহমান, ফারুক আকন্দ, রিপন আকন্দ, আজিজুল হাওলাদার, লিটন শিকদার, আব্দুর রাজ্জাক টিক্কা সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এসময় বক্তারা বলেন, ২০০৯ সালের ৫ জুলাই উরুমকি দাঙ্গার ১৪তম বার্ষিকী। সেদিন জিনজিয়াং এর রাজধানীর রাস্তায় উইঘুর মুসলমানদের চীনাদের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছিল। জিনজিয়াং জাতিগত অস্থিরতার কারণে সৃষ্ট মারাত্মক দাঙ্গার সম্মুখীন হয়েছিল উইঘুর জাতিগোষ্ঠীর আবাসস্থল। চীনের দক্ষিণ পূর্বে শাওগুয়ানে একটি খেলনা কারখানায় কর্মরত উইঘুর পুরুষরা চীনের সংখ্যাগরিষ্ঠ জাতিগত হান গোষ্ঠীর কর্মচারীদের বিরুদ্ধে চীনের উইঘুর নারী সহকর্মীদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আনা হয়েছিল। যার ফলে ২টি জাতিগত গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে এবং সেই সংঘর্ষে ২ উইঘুর মুসলিম নিহত হয়। যদিও অভিযোগের সূত্র এবং যৌন নিপীড়নের কোনো প্রমান নেই। উইঘুররা জিনজিয়াং এর রাজধানী উরুমকিতে ফিরে ৫ জুলাই থেকে গুয়াংডং ঘটনার তদন্তের আহ্বান জানিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। তখন উইঘুর এবং হান বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর ১৭০০ জন আহত হয় এবং ১০০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। চীনা নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ১২ জন উইঘুর নিহত হয় এবং কয়েক মাস পরে আরও ৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে প্রতি বছর ৫ জুলাই বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশে উরুমকি গণহত্যা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
বক্তারা আরও বলেন, জাতিসংঘের দাবি অনুযায়ী, চীনের বন্দীশালায় বর্তমানে নারীসহ ১০ লাখ উইঘুর মুসলমান আটক আছেন।
তারা বলেন, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, উগ্রবাদ দমনের নামে চীন সরকার প্রায় ২০ লাখ উইঘুরকে কারাগারে আটকে রেখেছে। পরিবার থেকে শিশুদের জোর করে আলাদা করা হচ্ছে। উইঘুরদের বাড়ি ও মসজিদে চীন সরকার সার্বক্ষণিক নজরদারি চালায়। প্রতিবাদ করলে খুন গুমের শিকার হন উইঘুররা।চীন উইঘুর নারীদের ওপর নির্যাতন করে যুদ্ধাপরাধ করছে। তাদের দাবি, চীনকে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস বন্ধ করতে হবে। উইঘুরদের জাতিগত নিধন বন্ধ করতে হবে। উইঘুরদের ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা দিতে হবে। উইঘুর মুসলিমদের মসজিদ ধ্বংস বন্ধ করতে হবে। বন্দি শিবিরে আটক ২০ লাখ উইঘুর মুসলিমকে মুক্তি দিতে হবে। চীনের জিনজিয়াংয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে প্রবেশে সুযোগ করে দিতে হবে।

Related Articles

Back to top button