পূণরায় সন্ত্রাসীদের হামলায় ধ্বংসস্তুপে পরিনত জলিল মার্কেট, আসামীদের দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে : সদর ওসি

খবর নারায়ণগঞ্জ.কম :
নারায়ণগঞ্জ সদর থানাধীন গোগনগর পুরান সৈয়দপুর এলাকায় জলিল মার্কেট ও মার্কেট মালিকের বসত বাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার দ্বিতীয় দিনও হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২১ জুন) দিবাগত রাত ১১টায় সন্ত্রাসীরা জলিল মার্কেটে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করে। এদিন সন্ত্রাসীরা পুরো মার্কেটে ভাংচুর চালিয়ে ধ্বংসস্তুপে পরিনত করে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মঙ্গলবার রাতে একদল সন্ত্রাসীরা হঠাৎ জলিল মার্কেটে এসেই ব্যাপক ভাংচুর চালায়। এসময় সন্ত্রাসীরা বেশ কয়েকটি দোকানের দেয়াল, দরজা-জানালাসহ আসবাবপত্র ভাংচুর করে লুটপাট করে। ভাংচুরের সময় সন্ত্রাসীরা জলিল ও তার ছেলে রানা-সোহেলের নাম ধরে বিভিন্ন গালাগাল করে। তাদের এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। ফলে ভয়ে কেউ তাদের সামনে আসতে সাহস পায়নি।
এদিকে বুধবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, মার্কেটের প্রায় প্রতিটি দোকানের দরজা-জানালার গ্লাস ও আসবাবপত্র ভাঙ্গা। কয়েকটি দোকানের দেয়ালেও রয়েছে হামলার ক্ষত চিহ্ন। দোকানগুলোর সাটারগুলোকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে ফেলা হয়েছে। দূর থেকে মনেহয়, পুরো মার্কেটটি যেন ধ্বংসস্তুপে পরিনত। মার্কেটের সামনে দু’একজন লোক ছাড়া তেমন কাউকেই দেখা যায়নি। এ বিষয়ে তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, সোমবার রাতে যারা হামলা করেছিলো, তারাই আরও সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে এ হামলা চালিয়েছে। তবে কেন এই হামলা? এ বিষয়ে কেউ সঠিক উত্তর দিতে পারেন নি।
ধারনা করা হচ্ছে, সোমবার রাতে একই স্থানে হামলা চালায় গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রুবেল বাহিনী। ওই দিন শুধু মার্কেটেই নয়, মার্কেটের মালিক মো: জলিলের বসত বাড়িতে হামলা চালিয়েও ব্যাপক ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে তারা। এ ঘটনায় তার পরের দিন অর্থ্যাৎ মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় মো: জলিল বাদি হয়ে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন। থানায় মামলা দায়ের করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওই রুবেল বাহিনীই এ হামলা চালিয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আনিচুর রহমান মোল্লা বলেন, আমাদের কাছে এ ধরনের তেমন কোন অভিযোগ আসেনি। তবে আমরা তথ্য পেয়ে সেখানে গিয়েছি, আগের যে ঘটনা সেই ঘটনায় লোকজন জড়ো হতে চেয়েছিলো, আমরা যাওয়াতে সেই লোকজন সব ছত্রভঙ্গ হয়ে গেছে। আমরা প্রত্যেকটা আসামীকে গ্রেফতারের চেষ্টা করতেছি। আসামী যাদেরকে করা হয়েছে, সেই সমস্ত আসামীকে আমরা এখনও গ্রেফতার করতে পারিনাই। তবে আমরা চেষ্টা করতেছি, আসামীদের গ্রেফতার করার জন্য।
এর আগে গত ২০ জুন (সোমবার) রাতে গোগনগর পুরান সৈয়দপুর এলাকায় জলিল মার্কেট ও মার্কেটের মালিক মো: জলিলের বসত বাড়িতে সন্ত্রাসীরা হামল চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায়। এ ঘটনায় মঙ্গলবার মো: জলিল বাদি হয়ে গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রুবেল আহমেদসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করে।
মামলার অন্যান্য আসামীরা হলেন, মো: ইমরান (৩৪), রানা (২০), আনসার (৩৭), রিহান (২৩), হিমু (২৩), শাওন (৩০), শুভ (২৪), নয়ন (২৬), বিল্লাল (৩৫), শ্যামল (২৪) ও সেলিম (২৪), নাজমুল (২২)।

 

এটাও চেক করেন

সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে যেমন পদ্মা সেতু দৃশ্যমান তেমনিভাবে আলীগঞ্জ মাঠও দৃশ্যমান – পলাশ

খবর নারাযনগঞ্জ.কম: জাতীয় শ্রমিক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব কাউসার আহমাদ পলাশ বলেছেন, বাঙালি …

Shares